Wed. Feb 1st, 2023

    হারজাস কৌর গ্রেওয়াল; একাধারে অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক এবং জাতিসংঘের অ্যাম্বা’সেডর হিসেবে পরিচিত। নানাবিধ সামাজিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করাই তার কাজ। মাত্র ১৩ বছর বয়সে জাতি’সংঘের তরুণ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে আবেদন করেছিলেন। এরপর ১৯ বছর বয়সে জাতিসংঘ গ্লোবাল কম’প্যাক্টে তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে যোগ দেন।

    গত বছর গ্রেওয়াল মান’বাধিকার নিয়ে বিশেষ অবদান রাখায় ডায়ানা পুরস্কার পান। পরবর্তীতে এ পুরস্কারের অনুপ্রার*ণায় তিনি গড়ে তোলেন ইউনাইটেড উইমেন। এছাড়া তিনি কাজ করছেন বিউটি কোম্পানি ডেসিয়েমে। তার জীবনযাত্রা ও দৈনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়েই আজকের আয়োজন-

     

    ঘুম থেকে ওঠেন ভোর সাতটায়ঃ
    গ্রেওয়াল সাধারণত ভোর সাত’টায় ঘুম থেকে ওঠেন। তবে ক্লান্ত থাকলে কিছুটা দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমার সকালের শুরু হয় জানালা দিয়ে আসা বাতাস উপ’ভোগের মাধ্যমে। আমি কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে প্রকৃতির স্বাদ নিই। এর মাধ্যমে আমি সবসময় পরিতৃপ্ত হই এবং কাজের প্রেরণা পাই।’

    সাড়ে সাতটায় শুরু হয় শরীরচর্চাঃ
    শরীর’চর্চার মাধ্যমে দিন শুরু হয় তার। একজন স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষ হিসেবে তিনি প্রতিদিন কিছু সময় এখানে ব্যয় করেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে আমার বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনকে নিজেদের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

     

    লেখালেখি শুরু করেন সকাল আটটায়ঃ 
    এরপর শুরু করেন লেখালেখি। কবিতা, ডায়েরি, স্মৃতিগদ্য বা যেকোনো লেখাই তিনি লেখেন এই সময়ে। তিনি ছোটবেলা থেকে লেখা’লেখি শুরু করেছেন এবং মহামারির সময়ে ঘরে বসেও লেখালেখিতে সময় দিচ্ছেন। প্রতিদিন নানা বিষয়ে তিনি লেখালেখি করেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামেও একটি পেজ খুলেছেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক মানুষ জানেন না আমি ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করছি। সাত বছর বয়স থেকে লেখালেখির পাশা-পাশি অভিনয়ের সঙ্গেও যুক্ত ছিলাম।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি কবিতা ও গদ্য লিখে সময় কাটাতে ভালোবাসি। কারণ এটি আমার আগ্রহের জায়গা। আমি মনে করি মানুষের যে বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে, সে বিষয় নিজেকে ব্যস্ত রাখা উচিত।’

    মূল কাজ শুরু ৯টায়, শেষ বিকেল টায়ঃ
    বর্তমানে তিনি কানাডার টরন্টো শহরের পার্লার কোম্পানি ডেসিয়েমে কাজ করছেন। যদিও করোনা মহামারির কারণে গ্রেওয়াল এখনে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন।

     

    দুপুরের খাবার খান ১২টা থেকে একটার মধ্যেঃ 
    আগেভাগে খাওয়ার চেষ্টা করেন গ্রেওয়াল। তিনি মনে করেন, আগেভাগে খেয়ে নিলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি মল্লিকা কওরের লেখা ‘ফেইথ, জেন্ডার, অ্যাকটি;ভিজম ইন দ্য পাঞ্জাব কনফ্লিক্ট’ বই পড়ছি। বইটিতে ১৯৮০-৯০ দশকে পাঞ্জাবে শিখ ধর্মাবলম্বীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে অনেক কিছু লেখা রয়েছে। আমিও ভারতের দেশভাগ এবং পাঞ্জাবের শিখদের বিরুদ্ধে সহিংসতা নিয়ে বই প্রকাশ করেছি।’

    ছুটির দিনে সময় দেন পরিবারকেঃ 
    সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গ্রেওয়াল পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে কোনো স্থানে ঘুরে আসেন। একটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘ছবিটিতে যিনি টিশার্ট পরে আছেন আমার ছোটভাই জুঝার। তিনি বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লীর সম্প্রতি কৃষক আন্দো*লনেরও সমর্থন করেন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমার পুরো পরিবারই সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে আগ্রহী এবং মাঝেমধ্যেই আমরা বিশ্বের বিভিন্ন ইস্যু ও দর্শন নিয়ে কথাবার্তা বলি।’

    ননপ্রফিটের কাজ শুরু করেন সন্ধ্যা ছয়টায়ঃ 
    অফিস থেকে ফিরে তিনি একটু বিরতি নেন। তারপর নন-প্রফিটের কাজ শুরু করেন। মাঝেমধ্যে লেখালেখি করেন। রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা অবধি চলতে থাকে তার কাজ।

     

    ঘুমাতে যান রাত ১১টায়ঃ
    সব কাজ সেরে রাত ১১টার সময়ে তিনি ঘুমাতে যান। বলিউডের হিন্দি সিনেমার গান শুনতে শুনতে তিনি ঘুমাতে যান। ঘুমানোর আগে কৃতজ্ঞতা ভরে বন্ধুদের স্মরণ করেন। মনে মনে বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আমার বন্ধুরা। তারা আমাকে যতখানি সহায়তা করেছেন আমি কারও কাছ থেকে এমন পাইনি।’

    তথ্যসুত্রঃ বিজিনেস ইনসাইডার