Wed. Feb 1st, 2023





    আট বছর আগে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ফার্মপাড়ার কামরুল হাসানের মেয়ে ঝুমা খাতুনের সঙ্গে সদরের আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়া গ্রামের ফজলুর হকের ছেলে শাহিনের বিয়ে হয়। তাদের কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে দুই সন্তান। মেয়ে সাইবা খাতুন (৩) ও ছেলে আবু সাইফকে (১) নিয়ে ভালোই কাটছিল তাদের সংসার।

    হঠাৎ তাদের সংসারে কলহ দেখা দেয়। মাঝেমধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝুমা খাতুনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন। তাদের নির্যাতনে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ঝুমা। বিষয়টি জানতে পেরে ঝুমা ও তার সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে আসেন মা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সন্তানসহ পুনরায় স্বামীর বাড়িতে যান।

     






    এরপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন আবার নির্যা’তন শুরু করেন। নির্যা’তন সহ্য করতে না পেরে আবার আত্ম*হত্যার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে চিকিৎসার জন্য ঝুমাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন বাবা-মা।  এ ঘটনার পর থেকে শাহিন ও তার পরিবারের লোকজন ঝুমার খোঁজখবর নিতেন না। বিষয়টি সমা’ধানের জন্য বিভিন্ন জনের কাছে গিয়েও কোনো কাজ হয়নি। বুধবার (১২ মে) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যায় ঝুমার পরিবার।

    পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টারকে নির্দেশ দেন।

    পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিতা রানী বিশ্বাস উভয়-পক্ষকে সাপোর্ট সেন্টারে ডেকে আনেন। উভয়ের সমস্যার কথা শোনেন এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উভয়কে অনুরোধ করেন। অবশেষে ভুল বুঝতে পারে শাহিন ও তার পরিবার। শাহিন ভুল স্বীকার করে ঝুমার সঙ্গে সংসার করতে রাজি হন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

     






    এএসআই মিতা রানী বিশ্বাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ‘উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টার’ ইতোপূর্বে একাধিক পরিবারকে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। উভয়’পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান দিয়েছে। উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টারের পদক্ষেপ দেখে ভুক্ত-ভোগীরা আসছেন প্রতিদিন। কেউ সমাধান ছাড়া ফিরে যাননি। এজন্য পুলিশ সুপার প্রশংসায় ভাসছেন।

    চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) জাহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, “অনেক সময় ছোট’খাটো সমস্যার কারণে অনেকের সংসার ভেঙে যায়। এতে অনেক শিশু মা-বাবার ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়। ওসব শিশুর সঠিক বিকাশ হয় না। এসব দেখে জেলা পুলিশ উদ্যোগ নিয়েছে উইমেন্স সাপোর্ট সেন্টারের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার।

     






    এর মাধ্যেমে শাহিন-ঝুমা দম্পতি ফিরে পেল তার সুখের সংসার ও  সাইবা ও আবু সাইফ ফিরে পেল পিতৃস্নেহ।”

    Source: Dhaka Post