Thu. Feb 2nd, 2023

    …………………………

    তরুণ উদ্যোক্তা মো. মাইনুল হাসান দুলন। নিজের উদ্যোগে একেবারে শূন্য থেকেই গড়ে তুলছেন একের পর এক সফল স্টার্টআপ। নতুন প্রজন্মের এই প্রতিভাবানকে নিয়ে লিখেছেন বেনজির আবরার—
    বেড়ে ওঠার গল্পটি যেমনঃ
    বিভিন্ন কারণে ক্লাস ওয়ান থেকে নাইন পর্যন্ত আমার ৭টি স্কুল পরিবর্তন করতে হয়। চাঁদপুর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হই। একাদশে ভালো রেজাল্ট করে                                                    কলেজের সর্বোচ্চ নম্বর পাই। তখনকার সময় ওই কলেজের প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ সোলাইমান স্যারের উত্সাহ, অনুপ্রেরণা ও আমার চেষ্টায় দ্বাদশে জেলা পর্যায়ে প্রায় ১৪টি পুরস্কার পেয়েছি। যা আমার জীবনের বাঁক ঘুরিয়ে দিয়েছে।

    …………………………

    জীবনের ইউটার্নঃ
    ঢাকায় আসি ২০১২ সালে। ভর্তি হই ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে। কিন্তু একদিন ভার্সিটির একটা প্রোগ্রামে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান স্যারের ‘উদ্যোক্তা’ প্রসঙ্গে দেওয়া                                                           বক্তব্যের কথাগুলো মাথার গেঁথে যায়। সেখান থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এর মধ্যে ২০১৪ সালের ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ শুরু হয়ে যায়। মাথায় এল, জার্সি বিক্রি করলে কেমন হয়? যেই ভাবা সেই কাজ! পরের দিন সকালে উঠেই স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে পাইকারি দামে জার্সি কিনে এনে পরিচিতজন ও অনলাইনে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে বিক্রি করি। তখন প্রতি সোমবার                                               ভার্সিটির স্টার্টআপ মার্কেট হতো। সেখানে আমার প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করতাম।

    পুরোদমে উদ্যোক্তাঃ

    অনলাইনে ফেসবুক পেজ বা গ্রুপের মাধ্যমে শুরু করলেও ধীরে ধীরে ডি স্মার্ট কালেকশন শো-রুমে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও ডি ক্যাফে, ডি স্মার্ট টেক্সটাইলস, ডি ইভেন্টস ও ডি স্মার্ট ইউনিফর্ম সলিউশন। ড. সবুর খান স্যার প্রায়ই                                              তার বক্তব্যে বলেন, ‘যেখানে সমস্যা আছে, সেখানেই সম্ভাবনা আছে।’ এই কথাটি সবসময় আমাকে ভাবিয়ে তুলত!
    ছোটবেলায় আমাদের স্কুল বা কলেজে ইউনিফর্ম বাধ্যতামূলক ছিল। আমাদের স্কুল ইউনিফর্ম ‘স্কাই ব্লু’ হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন টেইলার্স থেকে বানানোর কারণে একেক জনের ইউনিফর্ম একেক রকমের শেড হয়ে যেত। যা অনেকটা দৃষ্টিকটু লাগত। এমনকি একসেট ইউনিফর্ম বানাতে কাপড় ও সেলাইসহ                                         প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হতো। যা বর্তমানে বাজারে প্রায় ১৫০০-২০০০ টাকা। সেখান থেকেই ভাবনায় আসে এ নিয়ে কাজ করার।

    …………………………

    ২০১৭ সালে যখন আমাদের ডি স্মার্ট টেক্সটাইলস বায়িং হাউজের মাধ্যমে জার্মানির একটি স্কুলের ইউনিফর্মের অর্ডার আসে। তখনই ছোটবেলার ওই অপূর্ণ আইডিয়া বা ইচ্ছাটি মাথায় আসে। সেখান থেকেই ডি স্মার্ট ইউনিফর্ম সলিউশনের যাত্রা শুরু হয়।
    এর মধ্যে আমাদের চুক্তিবদ্ধ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি সেট ইউনিফর্ম মাত্র ৬০০-৯০০ টাকায় দিচ্ছি। এর পাশাপাশি আমরা চুক্তিবদ্ধ স্কুল বা কলেজসমূহে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ ও                                                            শিক্ষা উপকরণ দিয়ে থাকি। যার ফলে ওই প্রতিষ্ঠানসমূহে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রবণতা অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। এছাড়াও তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্কশপের ব্যবস্থা করি।
    জীবনের মূল ভাবনাঃ   যে কাজই করি না কেন সার্থকতা ও আত্মতৃপ্তি চাই। এটা খুব জরুরি। সফলতা খুব দ্রুত চাই না। কিন্তু যখনই আসুক, সেটা স্থায়ীভাবে আসুক।

    …………………………

    তথ্যসূত্রঃ ডেইলি ইত্তেফাক (০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)