Mon. Feb 6th, 2023

    …………………………

    নাজমুস সাকিবদের কাছে অপেক্ষাও ছিল পরীক্ষার অংশ। প্রথমে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। চলেছে প্রস্তুতির ভাঙা-গড়া। ভর্তি পরীক্ষা হবে কি হবে না, কবে হবে, কীভাবে হবে—এসব নিয়েও শঙ্কা ছিল অনেক। সব বাধা পেরিয়েই সরকারি-বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিটগুলোর ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধাতালিকায় প্রথম হন নাসমুস সাকিব। গত ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ১২ সেপ্টেম্বর। পরীক্ষায় সাকিবের মোট স্কোর ছিল ২৯৫।
    ……
    পঞ্চগড়ের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা প্রত্যন্ত গ্রাম শিংরোড়-রতনীবাড়ি এলাকায় তাঁর বাড়ি। কৃষি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কৃষক প্রশিক্ষক বাবা সোলেমান আলীর চার ছেলের মধ্যে নাজমুস সাকিব সবার ছোট। পঞ্চগড় বিষ্ণুপ্রসাদ (বিপি) সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকার সেন্ট জোসেফ সেকেন্ডারি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়েছেন এ তরুণ। দুটিতেই ছিল জিপিএ–৫।

    …………………………

    নাজমুস সাকিব বলছিলেন করোনাকালের দীর্ঘ অনিশ্চয়তার দিনগুলোর কথা। সাকিব বলেন, ‘আমাদের কোনো নির্দিষ্ট পরিচয় ছিল না। না আমরা কলেজের ছাত্র, না বিশ্ববিদ্যালয়ের। কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে অনলাইনে কোচিংয়ের মাধ্যমে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলাম।’

    চিকিৎসক হওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। হোক সেটা মেডিকেলে বা ডেন্টালে। কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন তিনি? সাকিব বলেন, ‘আমি মূল পাঠ্যবইকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। মূল বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলো আন্ডারলাইন করে বারবার পড়তাম। এ ছাড়া কোচিংয়ের পরীক্ষাগুলো মিস করিনি। পরীক্ষায় যেসব উত্তর ভুল করতাম, পরের পরীক্ষায় সেগুলো আলাদা গুরুত্ব দিয়ে পড়তাম। আর মনটাকে সুস্থ রাখতে গ্রামের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতাম।’

    ডেন্টালে ভর্তি হলেও মেডিকেলের প্রতিই তাঁর আগ্রহ ছিল বেশি। গত ২ এপ্রিল মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন পাঁচেক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রস্তুতিটা ভালো হয়নি। অসুস্থতা নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু দিন শেষে ফল আশানুরূপ হয়নি। তাই ডেন্টাল পরীক্ষার জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নেন তিনি। দিন শেষে প্রস্তুতিটা কাজে এসেছে।

    …………………………

    সাকিবের স্বপ্ন—মানবিক চিকিৎসক হবেন। তিনি বলেন, ‘ভালোভাবে পড়ালেখা শেষ করে চিকিৎসক হতে পারলে দেশের যে প্রান্তেই থাকি না কেন, মাসে অন্তত একবার হলেও গ্রামে ফিরে নিজের গ্রামের মানুষদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিতে চাই।’ এদিকে নাজমুস সাকিবের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তাঁর গ্রামের পুরো মানুষ। এ জেলায় মেডিকেল কলেজ বা ডেন্টালে ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা হওয়ার দৃষ্টান্ত এটাই প্রথম।

    নাজমুস সাকিবের বড় ভাই মাদ্রাসাশিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আমাদের চার ভাইয়ের মধ্যে ও সবার ছোট। ছোটবেলা থেকে সে মেধাবী। সবার আদরের হওয়ায় মা কখনোই তাঁকে বাইরে পড়ানোর পক্ষে ছিলেন না। বাড়ির পাশের কেজি স্কুল থেকে সে পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি নিয়ে পাস করে। এরপর নিজেই বাড়ি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় জেলা শহরের বিপি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তির ফরম কিনে এনেছিল। সেখানে ভর্তি হয়ে মেসে থেকে পড়াশোনা করেছে। আমার ছোট ভাই যেন শুধু ভালো চিকিৎসক নয়, ভালো মানুষ হতে পারে, সবার কাছে এ দোয়া চাই।’