Thu. Feb 2nd, 2023

    …………………………

    ‘এক্সিলেন্স বাংলাদেশ’ দেশের তরুণদের নিয়ে নানা রকম কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া স্কিল ডেভেলপমেন্টে আগ্রহী তরুণরা। তরুণদের সংগঠনটি গত ৩ বছরে অসংখ্য কাজ করেছে। সংগঠনটির প্রধান বেনজির আবরার। সম্প্রতি কথা হয় তাদের অগ্রযাত্রা নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সালাহ উদ্দিন মাহমুদ—
    ………
    জাগো নিউজ: কখন থেকে এমন ভালো কিছু করার ইচ্ছা জেগেছে?
    বেনজির আবরার: আমি লেখালেখি করি ২০১২ সাল থেকে। কুমিল্লা থেকে এইচএসসির গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা এসে বিভিন্ন দৈনিকে তরুণদের সফলতার গল্প লিখতাম। মানসিক তৃপ্তি পেতাম। লেখালেখির পাশাপাশি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি বিবিএতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকবিরোধী ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছি। স্টামফোর্ড ডিবেট ফোরামের সহ-সভাপতিও ছিলাম। তখনই ইচ্ছা জাগে, সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কিছু করার। যেখানে শিক্ষার্থীরা সংগঠন করার পাশাপাশি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে সহযোগিতা করবে।

    …………………………

    জাগো নিউজ: যেভাবে কাজটি শুরু করেছিলেন—
    বেনজির আবরার: এমবিএতে ভর্তি হলাম। জমে থাকা ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে চিন্তা করছিলাম, আমার স্ট্রং জোন কী? প্রথম পেলাম, লেখালেখির সুবাদে প্রচুর কর্পোরেট মানুষকে চিনি। যাদের অনুরোধ করে বিভিন্ন সেমিনারে আনতে পারবো। দ্বিতীয়টা হচ্ছে, আমার সঙ্গে চমৎকার কিছু তরুণের পরিচয় আছে। যাদের নিয়ে কাজ করতে পারবো। তৃতীয়ত, এমন কয়েকজনকে কোর টিমে নিয়েছি; যারা বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি রান করেছে আমাদের প্লাটফর্ম থেকেই।

    তিনটি বিষয়ই আমার জন্য বেশ সহজ ছিল। এরপর প্রথমে ৬ জনের সেন্ট্রাল টিম তৈরি করে ৫৫টি ক্যাম্পাসে অ্যাম্বাসেডর নেই। তারপর একটি ইউনিক সেগমেন্ট নিয়ে পরিকল্পনা করি। আমরা ভার্সিটিগুলোয় খবর নিয়ে দেখি, যে যেই বিভাগে পড়েন; সেখানে কর্পোরেট মার্কেট সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না শিক্ষার্থীরা। যার প্রভাব পড়ে চাকরির বাজারে। এই জানানোর কাজটাই শুরু করি আমরা।

    …………………………

    জাগো নিউজ: কয়েকটি সফল আয়োজনের কথা বলুন—
    বেনজির আবরার: ক্যারিয়ার ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং করি সিভিল ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের নিয়ে। আক্তার গ্রুপের সহযোগিতায় করি ক্যারিয়ার ইন মার্কেটিং। ব্রান্ড প্রফেশনালসদের জন্য এবিসি অব ব্রান্ডিং করি। নারী কর্পোরেটদের সফলতার গল্প নিয়ে করি সাহসী পথযাত্রা। আয়োজনগুলোতে মোটিভেশনের চেয়ে জব ফিল্ড নিয়ে বেশি কাজ করতাম। আমাদের সঙ্গে প্রায় ৯০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনেকেই যোগাযোগ করেন যুক্ত হতে। প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মুখ প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা রিয়াজ হোসাইন, হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স আফসানা মিশু রাত্রি এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার অনিক হাসান। আমরা ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আইইউবিএটিতে ৭১টি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান নিয়ে বড় জব ফেয়ার করি। একদিনে ২০ হাজার চাকরিপ্রার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। আমাদের এ ফেয়ারে প্রাণ, ভিভো, বিডিজবসসহ নামকরা সব প্রতিষ্ঠান সিভি সংগ্রহ করে।

    জাগো নিউজ: দেশে করোনা সংক্রমণের সময় কীভাবে কাজ করেছেন?
    বেনজির আবরার: করোনায় চাকরির বাজারে যখন হতাশা; তখন ৭৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩শ’র বেশি সদস্যের সহযোগিতায় কর্ম বাই গুগলের সঙ্গে ভার্চুয়ালি জব ফেয়ার করি। সেখান থেকে ই-কমার্সগুলোয় প্রায় ৫০ জনের চাকরি হয়। আমাদের ফেসবুক গ্রুপে প্রতিনিয়ত মানুষকে চাকরির পরামর্শ ও খবর জানাই। করোনার প্রথম ধাপে প্রায় ১শ’র বেশি কর্পোরেট মানুষকে লাইভে আনি। তাদের স্টোরি আমাদের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে কাজ করেছি। দেশের এইচআরদের সংগঠন বিএসএইচআরএমের এজিএমের পুরো ডাটাবেজের কাজ করেছি। ‘সেলস অ্যাম্বাসেডর বাংলাদেশ’র সেলস প্রফেশনাল সামিটের ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে পুরো ইভেন্ট কাভার করেছি।

    জাগো নিউজ: কাজ করতে গিয়ে কাদের পাশে পেয়েছেন?
    বেনজির আবরার: কাজ করতে গিয়ে ডেইলি স্টার, মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেডকে পেয়েছি ক্যাম্পাস ক্লাব সামিট ২০২০ করার সময়। যেখানে ক্লাবগুলোর মধ্যে ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। স্পিকার হিসেবে ছিলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, এসবি টেক ভেঞ্চারসের সিইও সোনিয়া বশির কবির, টেন মিনিট স্কুলের সিইও আয়মান সাদিক, ডেইলি স্টারের চিফ স্ট্রাটেজি অফিসার তাজদীন হাসান, নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশনের প্রধান ইকবাল বাহারসহ দেশের কর্পোরেটে পরিচিত অনেকেই। এছাড়া ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং সামিটের বাংলাদেশ পর্বের স্টুডেন্ট এনগেইজমেন্ট পার্টনার এবং বাংলাদেশ মার্কেটিং ডের পার্টনারও ছিলাম আমরা।

    …………………………

    জাগো নিউজ: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতা আছে কি?
    বেনজির আবরার: আমরা থেমে থাকিনি। দেশের বাইরে ভারতীয় ই-লার্নিং প্লাটফর্ম ‘ওয়াধওয়ানি ফাউন্ডেশন’র কোর্স আমাদের সদস্যরা সফলভাবে শেষ করেছেন। বর্তমানে আইএলওর একটি প্রজেক্টের আওতায়ও ফ্রি উদ্যোক্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন সারাদেশের সদস্যরা। প্রতিষ্ঠানটির ইভেন্টগুলোয় পাওয়া যায় স্পন্সর পার্টনার। যা দিয়ে কোর টিমের বেতনের অংশ আর খরচ মেটানো হয়।

    জাগো নিউজ: সংগঠনের অন্য কোনো কার্যক্রম থাকলে বলবেন–
    বেনজির আবরার: আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এজেন্সি ‘এক্সিলেন্স বাংলাদেশ ডিজিটাল’র যাত্রা খুব কম দিনের হলেও বেশ ভালো। বর্তমানে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত গ্রাফিক ডিজাইন, কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং করে এ টিম। এখানে কাজ করেন ৭ জন ডিজাইনার। দলের মোট সদস্য ১৪ জন। এটি পরিচালনা করেন হেড অব কমিউনিকেশন্স রাফসান বিন রাজ্জাকসহ মূল প্লাটফর্মে কাজ করা শিক্ষার্থীদের অনেকে। মানে নিজেরাও চাকরির ব্যবস্থা করে মূল প্লাটফর্মকে সঠিক দিকে নিচ্ছেন তারা।

    …………………………

    জাগো নিউজ: সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাই—
    বেনজির আবরার: বর্তমানে কিছু সাস্টেইনেবল কাজের দিকে মনোযোগ দিয়েছি। বছরজুড়ে ক্যালেন্ডার ১৭টি আয়োজনের বাইরে আমরা এখন সারাদেশের ৪৫টি ক্যাম্পাসের জন্য অনলাইনে ফ্রি স্কিল ডেভেলপমেন্ট উইক করছি। যেখানে শিক্ষার্থীদের সিভি রাইটিং, লিংকডইন প্রোফাইল তৈরি, জব পোর্টাল প্রোফাইল তৈরি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে আমরা চেষ্টা করছি, দেশের মূলধারার প্লাটফর্মগুলোকে সাথে নিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের প্রজেক্ট স্থায়ীভাবে করতে। আশা করছি, আমাদের সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ আগামী একবছরের মধ্যে সাবলম্বী হবেন চাকরির বাজার, উদ্যোক্তা এরিয়াগুলোয়। ভবিষ্যতে এটাকে বড় আঙ্গিকে রাখতে চাই ৬৪ জেলায় সবগুলো বিভাগে আলাদা টিমের মাধ্যমে। সেন্ট্রাল টিম, ক্যাম্পাস টিম ও ডিজিটাল উইং পাশে থাকায় কাজ ভালো হচ্ছে।