Sun. Jan 22nd, 2023

    …………………..

    @@@মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন, লেকচারার, সাতকানিয়া সরকারি কলেজ, ৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা).
    বিসিএস শুধু বৃত্ত ভরাট নয়, এটা একটা স্নায়ুচাপ পরীক্ষার পরীক্ষাও। BCS-কে যারা ধ্যান-জ্ঞান বা স্বপ্ন বা নিজের কাঙ্ক্ষিত  চাকরি                               হিসেবে নিয়েছেন, তারা জানেন এ পথ সহজ না। এর পথে পথে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এখানে ছিটকে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

    ছিটকে পড়বে নাই বা কেন! একজন মানুষ গড়ে যদি চাকরির বয়সের মধ্যে                           ৫ টি বিসিএস পায় তাহলে ৫টি বিসিএস মিলে গড়ে ২০০০ সিট ধরলে ১০ হাজার সিট। সব সিট আবার তার জন্য না। কিন্তু প্রতিবছর কত শিক্ষার্থী বের হচ্ছে! কোন কারণে ঘাটতি থাকলে হারিয়ে যেতে হয়।  তাই সবার ভাগ্যে BCS ধরা দেয় না। নানা কারণে দেয় না।  কেউ পরিবার সামলাতে গিয়ে, কেউ দ্রুত অন্যের দায়িত্ব নিতে গিয়ে, কেউ নিজেকে সময় দিতে না পেরে, কেউ স্নায়ুচাপ নিতে না পেরে, কারো দ্রুত চাকরি দরকার                                     অথচ BCS-এর দীর্ঘপ্রক্রিয়ায় সে নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, কেউ চাকরি করে এসে পারে না রাতটাকে                                একটু স্বপ্নের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে। ফলে ভেঙ্গে যায়  হাজারো স্বপ্ন।

    …………………..

    মধ্যবিত্ত,নিম্ন-মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্তের স্বপ্ন। এদের জীবনে আসলে স্বপ্নটাই আসল। কারণে-অকারণে তাদের স্বপ্নগুলো এভাবে হারিয়ে যায় বাস্তবতার সাথে                                  সংগ্রাম করতে করতে। এ কারণগুলো পরীক্ষার হলে তাকে ঘিরে রাখে, ঘিরে রাখে তার স্বপ্নগুলোকে। তৈরি হয় এক অজানা চাপ। শত দিনের সংগ্রাম নানা চাপে হারিয়ে যেতে থাকে।  অথচ সে বহু পরিশ্রম, সাধনা করে                                     এক একটা পথ পাড়ি দিয়েছে৷ কেউ লিখিত পরিক্ষা ফেরত, কেউ VIVA ফেরত। কেউ আবার কয়েকবারের VIVA ফেরত। না তিনি অমেধাবী বা                            পরিশ্রমবিহীন ব্যক্তি নন। ভাগ্য, পরিশ্রম নানা কারণে তার সহায় হয়নি।

    অনেকে পরীক্ষার পর  ৮০-৯০টা পেরেছে দেখে মনে করতে পারে                              এটা এমন কঠিন কী!!!  আসলে ৮০-৯০ নম্বরে  প্রিলি পাস হয় না। আরো ২০-৩০ লাগে। এই ২০-৩০ এর জন্য পড়তে হবে। পড়তে বসলে স্বপ্ন তৈরি হবে, স্বপ্ন আসলে চাপ-হতাশাও আসবে।  বাসায় বসে স্নায়ুচাপ ছাড়া ৮০-৯০ পারা যায় তবে পাস করার জন্য নেগেটিভ  মার্ক কন্ট্রোলে রেখে                                      ১০০-১১০ উঠানো কঠিন হয়ে যায়। এতদিনের শ্রম, স্বপ্ন, সবার আকাঙ্ক্ষা সব মিলিয়ে পাস করতে গেলে এ ১২০ মিনিটে নানা ভুল হয়ে যায়। এই বুঝি কম দাগিয়েছি, কাট মার্ক বেশি হবে মনে হয়, কেটে-ছেটে থাকবে কিনা                                  ভাবতে ভাবতে ভুল হয়ে যায়। তাই এখানে শুধু বৃত্ত ভরাট থাকে না। তাই এখানে যে কারো স্বপ্নভঙ্গ হতে পারে। সেজন্য কেউ কিছু হতে না পারলে ছোট চোখে দেখা কাম্য নয়।
    প্রিলিমিনারি পাশ করেও অনেকে লিখিত থেকে                                    ঝরে যাবে আবার অনেকে ফাইনাল রেজাল্টে হেরে যাবে। যদিও সে অমেধাবী বা কম পরিশ্রমী ছিল না। ভাইভার ১৫-২০ মিনিট জীবনে উত্থান-পতন                                       এনে দিতে পারে। রিটেনে ৯০০ মার্কের পরীক্ষায় অঘটন ঘটতে পারে। নানা কারণে প্রিলিমিনারির মত রিটেনের প্রস্তুতি মজবুত নাও হতে পারে।

    ………………………

    রিটেনের আগে নানা ধরনের সমস্যা হাজির হতে পারে। বিশাল সিলেবাসে                          নানা কারণে পুরো প্রস্তুতি নাও আসতে পারে। তাই BCS মানে স্নায়ুচাপ পরীক্ষার পরীক্ষা।  বিসিএস যারা দিচ্ছে তাদের প্রতি অতি আকাঙ্ক্ষা রাখা উচিত নয়।  চাপে বা ভুলে সে পথচ্যুত হলে কষ্ট পাবেন। আবার নিজে সাফল্য পেয়ে বা না পেয়ে হোক আরেকজনের চেষ্টাকে হেয় করে                                      দেখাও  উচিত নয়। সবাই চেষ্টা করে, করে যায় তবুও হেরে যায় নানা বাস্তবতায়।হেরে যাওয়াদের বাস্তব অবস্থা অনেকে অবগত থাকে না।     চাকরি নিরাপত্তা, সম্মানী, সম্মান, ভাতা, চাকরির ধরণ সব মিলিয়ে বিসিএস বর্তমানে                               চাকরির বাজারে সোনার হরিণ। শুধু এখানে না ভারত সহ অনেক দেশে Civil Service  বরাবরই আকর্ষণীয় চাকরি। তাই সবাই ধরতে ছুটছে এ চাকরি। কেন যাবে না! সবার তো স্বপ্ন আছে। আমি বাঁধা দেবার কে! ভালো চাকরি কে পেতে না চায়! সবাই চায় জীবনটা সুন্দর হোক।

    তবে এ সুন্দর জীবনের পেছেনে রয়েছে                              অনেক কষ্ট, শ্রম, হতাশা, কাহিনী। সবকিছুর পেছনে রয়েছে অদৃশ্য এক চাপ। স্নায়ুচাপ। আছে বাস্তবতা নামের সংগ্রামময় কিছু শব্দ। যা অনেকের অজানা।  সবার রিজিকের ব্যবস্থা হোক এ প্রত্যাশায়।