Tue. Jan 31st, 2023

    …………………………

    যারা নতুন তাদের জন্য ভাইভা পরামর্শ: ভাইভা রুমে করণীয় ১)যারা ঢাকার বাইরে আছেন তারা কয়েকদিন আগেই যাবেন। আর যারা ঢাকাতেই আছেন তারা ভাইভার এলাকা ঘুরে আসুন। ভাল লাগবে ইনশা আল্লাহ। ২) আপনার পোশাক যেন মার্জিত হয় । ছেলেরা সাদা শার্ট এবং কালো প্যান্ট এবং নরমাল জুতো পড়বেন , কোট, টাই ইত্যাদি ততটা আবশ্যক নয় তবে ঠান্ডাতে ব্যবহার করতে পারেন, সাথে একটা কলম নিয়ে যাবেন । মেয়েরাও মার্জিত পোশাকে যাবেন । আপনাকে দেখে যেন একজন কর্মকর্তা মনে হয় । ৩) সাথে দরকারি সব কাগজাদি ফটোকপি সহ নিয়ে যাবেন সত্যায়িত করে । ভাইভা বোর্ডে সাথে মোবাইল না রাখাই শ্রেয় । ৪) আগের দিন অবশই ভালো একটা ঘুম না হলে আপনার মাথা সময়মত কাজ নাও করতে পারে, আগের দিন রাতে ২-৩ ঘণ্টা বেশি স্টাডি করে খুব একটা লাভ হয়না । ৫) দরজা খুলে ধরে বোর্ড চেয়ারম্যান এর দিকে তাকিয়ে আপনি বলবেন, আমি কি আসতে পারি স্যার, উনি ঢুকার অনুমতি দিলে ঢুকে সফট করে দরজা বন্ধ করে ধীর পদক্ষেপে হেটে বোর্ডের সামনে গিয়ে বলবেন, আসসালামুআলাইকুম। উনি সালামের উত্তর দিয়ে বসতে বললে বসবেন, না বললে ১০ সেকেন্ডের মত দাঁড়িয়ে থাকার পর বলবেন, স্যার, আমি কি বসতে পারি? ৬) ভাইভা বোর্ডে চেয়ারের হাতলে বা টেবিলে হাত রাখবেন না , সোজা সাবলীলভাবে বসবেন । চেয়ার যদি টেবিলের খুব কাছাকাছি থাকে, তাহলে দুই হাত দিয়ে আলতো করে ধরে একটু পিছিয়ে নিয়ে চেয়ারে বসবেন। বসার আগে আবারো চেয়ারটাকে একটু এগিয়ে ঠিক পজিশনে

    …………………………

    নিয়ে আসুন (তবে এই দরজা খোলা বা চেয়ারে বসার সময় কোন শব্দ যেন না হয়, সেটি লক্ষ্য রাখুন)। ৭) কুজো হয়ে বসবেন না, আবার মেরুদণ্ড সোজা টানটান করে হাস্যকরভাবেও বসবেন না। ৮) বিভিন্ন বইতে দেখেছি, হাসি হাসি মুখে থাকার পরামর্শ। ( কোন কারন ছাড়া এই মুহূর্তে একটু হাসি হাসি মুখ করুন, দেখুন তো কেমন লাগে!! ) বরং আমি মনে করি, স্যাররা মজার কিছু বললে বা ওরকম সলিচুয়শন ক্রিয়েট হলে মৃদু হাসবেন, অন্যসময় আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের সমন্বয়ে ভদ্রোচিত একটা ভাব বজায় রাখতে চেষ্টা করুন। চেহারায় উদ্ধত,গম্ভীর কিংবা ভয়ার্ত ভাব আনবেন না। ৯)এ ছাড়া অন্যান্য সাধারণ বিষয়াদি, যেমন প্রশ্নকর্তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, প্রশ্ন ও উত্তরের ভাষাগত সাদৃশ্য (অর্থাৎ যে ভাষায় প্রশ্ন হয়েছে, সে ভাষায় উত্তর) বজায় রাখা, ধীরস্থির থাকা এবং ছটপট করা,নখ ছিড়া, নাকে হাত দেওয়া, বারবার কাশির মত শব্দ করা, নাক টানাসহ সকল প্রকার মুদ্রাদোষ পরিহার করতে সচেষ্ট হোন। ১০) যারা ভাইভা নিতে আসেন, তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করবেন না। মনে রাখবেন, পিএসসি দেশের অত্যন্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা / একাডেমিসিয়ানদেরই ভাইভা বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। তাই বোর্ড সদস্যদের বোকা ভেবে কোন প্রকার আলগা চালাকি, মিথ্যা তথ্য দেওয়া, তর্কে লিপ্ত হওয়া হওয়া থেকে বিরত থাকুন। ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রশ্নে নিজের উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিন। ১১) উত্তর দেওয়ার সময় এমন কোন শব্দ/ টার্ম ব্যবহার করবেন না, যে সম্পর্কে আপনি সম্যক অবহিত নন।

    …………………………

    বরং চেষ্টা করুন যেসব টপিকে আপনার ভাল দখল আছে, সে টপিক রিলেটেড শব্দাবলি ব্যবহারের। কারন আগেই বলেছি, আপনার মুখে উচ্চারিত যেকোন একটি শব্দকে বেইজ করে পরের প্রশ্ন হওয়ার চান্স ৯০%. ১২) বিসিএস এর ভাইভা বোর্ড সদস্যরা শুধু আপনার অর্জিত জ্ঞান বা জানাশোনার গভীরতাই পরখ করেন না, বরং আপনার স্মার্টনেস, আপনার আত্মবিশ্বাস, সিচুয়েশন হ্যান্ডেলিং ক্যাপাবিলিটি, জানা বা অজানা বিষয়ে উপস্থাপনার ঢংও দেখা হয়। ১৩) যা বলবেন স্পষ্টভাবে বলবেন , কথা বলার সময় হাত নাড়াবেন না ,তাড়াহুড়ো করবেন না ,সময় নিয়ে একটু চিন্তা করে উত্তর দিন এবং কথা বলুন ,মনে রাখবেন স্যাররা বোর্ডে বসে ভাবেন যে আপনি একজন অফিসার হিসেবে মানান কিনা বা এই পদের জন্য আপনি যোগ্য কিনা ?ওই ২-১ টা প্রশ্ন পারা না পারাতে কিচ্ছু আসেনা ,তবে আপনি যদি একদম সামান্য বিষয় যা সবাই জানে , তা উত্তর দিতে না পারেন সেটা আপনার নেগেটিভ কিছু । ১৪) যারা ভাইভা নিয়ে থাকেন স্যাররা আমাদের মতই মানুষ , তাদের দৈত্য ভেবে ঘাবড়ে বসবেন না ,অজস্র পরীক্ষার্থী খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ভাইভা বোর্ডে গিয়ে সব গুলিয়ে ফেলে । যে যত সহজ থাকবে তার ভাইভা ভালো হবার সম্ভাবনা তত বেশি । ১৫) অনেক সময় স্যাররা ঘাবড়ানোর বা রাগানোর চেষ্টা করতে পারেন ,তখন ঠাণ্ডা মাথায় উত্তর করুন । ১৬)স্যাররা বাংলায় প্রশ্ন করলে বাংলায় এবং ইংরেজিতে প্রশ্ন

    …………………………

    করলে ইংরেজিতে উত্তর দিন । বোকার মত প্রশ্ন করবেন না যে স্যার বাংলায় নাকি ইংলিশে বলবো ??? ১৭) এক কথায় নরমাল থাকবেন । আর একেকজন ভাইভা শেষ করে বের হবার সাথে সাথে মৌমাছির মত তার পেছনে ছুটে অনেকে প্রশ্ন করার জন্য, তাকে প্রশ্ন করার দরকার নেই ,কারন একেকজন বের হয়ে একেক কথা বলবে ,এতে আপনার মাত্থা গরম হবার সম্ভাবনা বাড়ে। ১৮) যা জিজ্ঞেস করবে তা উত্তর করে চুপ থাকুন ,বেশি বলে বিদ্যা জাহির করতে গেলে বিপদে পড়ার চান্স বেশি বৈকি । ১৯)দুয়েকটা প্রশ্নের উত্তর করতে না পারলেও ঘাবড়ে যাবেন না। (কেউ কি বাস্তবে তা পারে)। বিনয়ের অবতার সেজে বলুন, ‘স্যরি স্যার, এই প্রশ্নটির উত্তর আমার জানা নেই’। ২০) নিজেকে উৎসাহী শ্রোতা হিসেবে উপস্থাপন করুন। কোনো বিষয় নিয়েই তর্কে জড়াবেন না। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে সেটি বিনীতভাবে বলুন। একটি প্রশ্নের উত্তর দেয়ার মাঝখানে অন্য একজন প্রশ্ন করলে প্রথমজনের কাছ থেকে অনুমতি নিন। ২১) ওইদিনের ২ টা বাংলা এবং ২ টা ইংরেজি পত্রিকার শিরোনাম দেখে যাওয়ার চেষ্টা করবেন । , ২২) মনে রাখবেন আপনি একজন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে যোগদান করার জন্যই ভাইভা দিতে এসেছেন ,প্রতিটা দেশের প্রতিটা

    …………………………

    সরকারের কিছু positive and negative বিষয় থাকে ,পজিটিভগুলোকে তুলে ধরার চেষ্টা করুন । ২৩) আপনার অ্যাকাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের সাথে আপনার ফার্স্ট চয়েজের একটা সম্পর্ক নিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে রাখবেন। ২৪) কোনো প্রশ্নের উত্তরে কনফিউশন থাকলে সেটি যতটুকু জানেন, ততটুকুই আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলবেন। তবে একেবারেই কোনো ধারণা না থাকলে উত্তর না করাই ভালো। ২৫) আপনার অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট আপনার ভাইভার মার্কসে কোনো প্রভাব ফেলবে না। রেজাল্ট অতোটা ভালো না হলে ওটার পক্ষে মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য একটা কারণ তৈরি করে রাখবেন। ২৬) রাজনৈতিক বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে গেলেই ভালো। , ২৭) ধর্মীয় পোশাকে কোনো বাধা নেই। দাড়ি টুপি নো প্রবলেম। পরিপাটি হয়ে যাবেন। , ২৮) টেকনিক্যাল ক্যাডারের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিজের সাবজেক্টের বেসিক বিষয়গুলি সম্পর্কে জেনে যাবেন। ২৯) একটু কনফিউসিং বানানের কিছু কমন শব্দ, সাধারণ কিছু অনুবাদ, জনপ্রিয় বই, ভূগোল ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে যাবেন। ৩০)আপনার প্রিয় শখ যা-ই বলুন না কেন, সেটি সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখবেন। , ৩১)কথা বলার সময় যদি হঠাৎ তোতলাতে থাকেন কিংবা খেই হারিয়ে ফেলেন, তাহলে একটু থেমে এরপর আবার উত্তর করা শুরু করবেন। , ৩২) বের হবার সময় সালাম ও মুচকি হাসি দিতে ভুলবেন না।