Thu. Feb 2nd, 2023

    লেখক: শাহ মোহাম্মদ সজীব, প্রশাসন ক্যাডার (২য় স্থান), ৩৪তম বিসিএস।

    সাধারণ জ্ঞানের জন্য আপনি যা করতে পারেনঃ

    ক) দৈনিক পত্রিকা আপনার সাধা’রণ জ্ঞানের ভান্ডারকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করবে। পত্রিকার 5 টি পৃষ্ঠা খুব মনো’যোগ দিয়ে পড়বেন। যথা প্রথম, শেষ, সম্পা*দকীয়, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পাতা। সময় ১ ঘণ্টা।

    খ) কিছু মৌলিক বই পড়তে হবে। যেমন অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বই এবং নবম-দশম শ্রেণির ইতিহাস ও পৌরনীতি বই।

    এই ৪টি বই আপনার ধারণাকে ব্যাপক মাত্রায় প্রসারিত করবে।

     

    গ) সব সময় বিস্তারিত পড়ার সময় পাওয়া যায় না। তাই সাধারণ জ্ঞানের জন্য একটা গাইডও অনু’সরণ করতে হবে। সেটা নতুন বিশ্ব হতে পারে। একটু বেশি তথ্য থাকলেও ভয় পাওয়া যাবে না। যতটুকু পারা যায়।

    ঘ) সংবিধান সাধারণ জ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটিকে তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে পড়তে হবে।

    যথা ১) সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস, ২) গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ-সমূহ এবং ৩) সংশোধনীসমূহ।

    এক থেকে ৪৭তম অনুচ্ছেদ ভালো করে পড়বেন। বাকি অনুচ্ছেদ*গুলো বাছাই করে পড়বেন।

    ঙ) ১৯০৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনের কিছু বিষয় মনোযোগ দিয়ে পড়লেই হবে। যেমন পলাশীর যুদ্ধ, বক্সারের যুদ্ধ, নীল বিদ্রোহ, সিপাহি বিদ্রোহ ইত্যাদি।

     

    চ) ১৯০৫ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ শাসনকে গুরুত্বসহকারে পড়তে হবে।

    ছ) ১৯৪৭ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত সময়’কে ইতিহাস অংশে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    এর জন্য আপনি ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের লেখা বাংলা-দেশের ইতিহাস: ১৯০৫-১৯৭১ বইটি পড়তে পারেন।

    জ) বাংলাদেশ ও বিশ্বের দুটি মানচিত্র সংগ্রহে রাখবেন। এটা খুব বেশি পড়ার কিছু নেই। মাঝেমধ্যে একটু দেখবেন।

    ঝ) বাজারে তথ্য*বিষয়ক মাসিক ম্যাগাজিন পাওয়া যায়। আপনি যেকোনো একটি সংগ্রহ করবেন এবং মাসের শুরুতেই

    পড়ে ফেলবেন। কারণ, বেশি পুরোনো হলে আর পড়তে ইচ্ছা করে না।

     

    ঞ) আন্তর্জাতিক যে ঘটনাগুলো একটু মনোযোগ দেবেন-আমেরিকার স্বাধীনতা-যুদ্ধ, খণ্ড-বিখণ্ড জার্মানির একত্রীকরণ,

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, স্নায়ুযুদ্ধ, জাতি’সংঘের উত্থান ও অঙ্গসংগঠন-সমূহ ইত্যাদি।

    ট) আন্তর্জাতিক অংশে আরও তথ্য জানার জন্য ড. তারেক শামসুর রহমানের বিশ্ব রাজনীতির ১০০ বছর বইটি দেখতে পারেন।

    ঠ) ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটসহ পড়তে চেষ্টা করুন। এতে গল্পের মতো তা মনে রাখা যায়।

    ড) ভৌগোলিক বিষয়, দেশগুলোর অবস্থান, দ্বীপ, যুদ্ধ ইত্যাদি ছন্দ আকারে মনে রাখতে পারেন।

     

    ঢ) সাম্প্রতিক বিষয় থেকে প্রশ্ন হবেই। বর্তমান সময়ে যা সবচেয়ে বেশি আলোচিত-আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, আইএসের ভূমিকা,

    রিও অলিম্পিক, তুরস্কের রাজনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি। সময়ের সঙ্গে এটি পরিবর্তিত হতে পারে।

    ণ) সাধারণ জ্ঞান পড়ার জন্য প্রতিদিন সময় বরাদ্দ রাখবেন। কিছু সময় বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও কিছু সময় আন্তর্জাতিক

    বিষয়াবলি পড়বেন।

    ত) পত্রিকায়, নেটে বা অন্য কোথাও নতুন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলে তা নোটখাতায় টুকে রাখবেন। অন্যথায় কিছুদিন পর ভুলে যাবেন।

    থ) বিসিএস বা যেকোনো পরীক্ষার কোনো প্রশ্ন যদি প্রাসঙ্গিকতা বা গুরুত্ব হারায়, তা আর না পড়লেও চলবে।

     

    দ) যদি সুযোগ থাকে, টপিকস ধরে গ্রুপ স্টাডি করতে পারেন। অর্থাৎ একদিন একেক-জন নির্দিষ্ট টপিক উপ’স্থাপনা করুন। এতে অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

    ধ) একটা কথা মানতে হবে, সাধারণ জ্ঞানের পরিসীমা নেই। এর আরেকটা ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো, কিছু জিনিস ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়।

    এমনকি সকালের তথ্য বিকেলে ভিন্ন হয়ে যেতে পারে। তাই নিজ দায়িত্বে পরি-বর্তিত তথ্যগুলো আপডেট করে নিতে হবে।

    ন) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৬ হতে বাছাই করে কিছু তথ্য পড়ে নিতে হবে।