Sun. Feb 5th, 2023

    …………………

    শামীমা ইয়াসমিন। ৩১তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। আর সম্মিলিত মেধা তালিকায় আছেন ষষ্ঠ স্থানে। স্বামী, সংসার আর সন্তান সামাল দিয়ে তাঁর এই অর্জন অবাক করেছে পরিচিতজনদের। তাঁদের কাছে                                     তিনি স্মৃতি নামেই পরিচিত। কতটা পড়তে হয়েছে এই অর্জনে? ছোটবেলা থেকেই কি বেশি বেশি পড়তেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শামীমা নিজের ছোটবেলার স্মৃতিতে ফিরে গেলেন। ‘মোটেও না। বাবার চাকরির সুবাদে ঝিনাইদহের সরকারি কলোনিতে কেটেছে  ছোটবেলা। সেখানে আমাকে সবাই দুষ্টু আর                                     দস্যি মেয়ে বলেই জানত। প্রাথমিকের পুরোটাই কেটেছে স্কুল ফাঁকি দিয়ে।’

    বাবা স্কুলে রেখে আসতেন আর স্মৃতি চলে যেতেন পার্কে। সারা দিন খেলাধুলা আর                                  স্কুল ছুটির সময়ে বাড়ি ফেরা লক্ষ্মী মেয়ে। তবে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে পড়াশোনায় মন দিতে শুরু করেন। আর ফলাফলও আসে আশানুরূপ। এরপর প্রতিবছরই ক্লাসে নিয়ম করে প্রথম হতেন। ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাস করেন স্টার মার্কস নিয়ে, ঝিনাইদহ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে। শুধু    পড়াশোনায় নয়, গান, আবৃত্তি, উপস্থাপনা, বক্তৃতা—এসব বিষয়েও সমান পটু ছিলেন স্কুল থেকেই। শামীমা বলেন, ‘একবার তো কলেজে আমি একটার পর                                          একটা পুরস্কার নিয়ে মঞ্চ থেকে নামছিলাম। পরে শিক্ষকেরা মঞ্চের পাশেই দাঁড় করিয়ে রাখলেন। সেবার মোট ১২টি পুরস্কার জিতেছিলাম।’

    ……………….

    এইচএসসিতেও প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে। দ্বিতীয় বর্ষে উঠতে না-উঠতেই বাড়ি থেকে                                বিয়ে দেওয়া হয় শামীমাকে। লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ কমে   আসতে শুরু করে। কিন্তু স্বামী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সারাক্ষণ চাইতেন তাঁর স্ত্রীর উচ্চশিক্ষা শেষ হোক। স্বামীর উৎসাহে পড়াশোনায় গতি ফিরে আসে তাঁর। শামীমা অনার্স, মাস্টার্স শেষ করেন। আবার এমবিএতে ভর্তি হন আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে। এখানেও আসে সাফল্য—সিজিপিএ-৪-এর মধ্যে তিনি পান ৩.৯৮। চাকরি শুরু করেন                                      এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকে (এডিবি)। ভালোই চলছিল সবকিছু। স্বামী আবার শামীমার স্বপ্নে নতুন রঙের ছোঁয়া দেন।

    সঙ্গে   শ্বশুর-শাশুড়ি ও মা রাজিয়া আক্তার উৎসাহ দেন। বিসিএস দিতে হবে শামীমাকে। তত দিনে কোলজুড়ে আসে সন্তান শাহমীর হোসেন। ঘরের টুকটাক কাজে শাহাদাত সব সময়ই সাহায্য করতেন স্ত্রীকে। সন্তানের দেখভালও করেন সমানভাবে। সেই সঙ্গে বাসায় স্ত্রীকে                                   পড়াশোনাতেও সাহায্য করতেন। শামীমার স্বামী বলেন, ‘শামীমা যখন যে কাজ করে নিষ্ঠার সঙ্গেই করে। সংসার সামলেও বিসিএসে এত ভালো রেজাল্ট করা তাই ওর পক্ষে সম্ভব হয়েছে। স্বামী হিসেবে আমি আমার সাহায্যটুকু করার চেষ্টা   করেছি। তবে সাফল্য অবশ্যই তার মেধার কারণে এসেছে।’    সব প্রস্তুতি শেষ। মাস দুয়েকের মধ্যেই চাকরিতে যোগ দেবেন শামীমা। আবার সব ঠিক থাকলে এর মধ্যেই                                       তাঁদের কোলজুড়ে আসবে দ্বিতীয় সন্তান। সব মিলিয়ে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ।

    …………………………

    তবে শামীমা ভয় পাচ্ছেন না মোটেও। সব সময়ই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন তিনি। সামনের নতুন চ্যালেঞ্জেও সফল হবেন বলে আত্মবিশ্বাস কণ্ঠে। সংসার আর সন্তানের লালন-পালনের ফাঁকেও যন্ত্রের সুর তাঁকে মুগ্ধ করে। আর তাই বাসায় বসেই কি-বোর্ড    বাজানোর চর্চা করেন। কে বলে বিয়ের পর                                    লেখাপড়ার ইতি আর শখের সমাপ্তি? শামীমা কিন্তু স্বামী, সংসার, সন্তান সামলে ঠিকই লেখাপড়া করেছেন। ক্যারিয়ার গড়েছেন। আর শখ? সে-ও তো বাজছে টুং টাং…। তবে অবশ্যই পাশে চাই একজন সহমর্মী মানুষ, সহমর্মী পরিবার।

    তথ্যসূত্রঃ বেকার জীবন ডটকম